হাওজা নিউজ এজেন্সি: রোববার সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেন, আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার বিরুদ্ধে ইরানের পারস্পরিক পদক্ষেপ সংক্রান্ত আইনের ৭ নম্বর ধারার আওতায় ইউরোপীয় দেশগুলোর সশস্ত্র বাহিনীকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে গণ্য করা হবে।
তিনি আরও জানান, এই সিদ্ধান্তের ফলে যে কোনো ধরনের পরিণতির দায়ভার সম্পূর্ণভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপরই বর্তাবে।
কালিবাফ জোর দিয়ে বলেন, “পবিত্র” আইআরজিসির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন যে দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপ নিয়েছে—যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও জায়নবাদী শাসকদের নির্দেশনা মেনে নেওয়া হয়েছে—তা ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক ব্যবস্থায় ইউরোপের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বহীন হয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
তিনি আরও বলেন, জায়নবাদপন্থী শক্তিগুলো মূলত ইরানের জনগণ ও স্বাধীন দেশগুলোকে ভয় দেখানোর জন্য এক ধরনের কৃত্রিম গণমাধ্যমিক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। তবে ইরানি জনগণ আইআরজিসিকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই মনে করে।
গত বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ২৭ সদস্যের এই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জোটের তথাকথিত সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় আইআরজিসিকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সম্মতি ঘোষণা করেন। ইরান এই পদক্ষেপকে সুস্পষ্ট রাজনৈতিক বৈরিতার উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করছে।
ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, আইআরজিসি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবিরোধী শক্তি এবং তারা না থাকলে ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চল দায়েশ (আইএসআইএস/আইএসআইএল)-এর সন্ত্রাসবাদে আক্রান্ত হয়ে পড়ত।
তেহরান আরও বলেছে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আইআরজিসি অন্য যেকোনো সামরিক বাহিনীর তুলনায় অধিক ভূমিকা পালন করেছে, অথচ আজ এই বাহিনীই সন্ত্রাসবাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষকদের—বিশেষ করে ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী ও যুক্তরাষ্ট্রের—হুমকির মুখে পড়েছে।
কালিবাফ সতর্ক করে বলেন, “ইউরোপ আইআরজিসির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে—যা সন্ত্রাসবাদ ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ার সবচেয়ে বড় বাধা—আসলে নিজেদের ক্ষতিই ডেকে আনছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অন্ধ আনুগত্যের মাধ্যমে আবারও নিজেদের জনগণের স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, ইউরোপ এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করছে, যাতে ওয়াশিংটন তাদের আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি হুমকি বন্ধ করে। কিন্তু বাস্তবে এই ‘প্রভু’ তার অনুগতদের কোনো মূল্য দেয় না—এ বিষয়টি বারবার প্রমাণিত হয়েছে।
কালিবাফ আইআরজিসিকে বিশ্বের সবচেয়ে অনন্য সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, অঞ্চলের জনগণের সহায়তায় এই বাহিনী দায়েশের শাসনের অবসান ঘটিয়েছে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বৈশ্বিক হুমকি নির্মূল করেছে এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শত শত শহীদ দিয়েছে—যাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এর অভিজ্ঞ ও কিংবদন্তিতুল্য কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাসেম সোলেইমানি।
আপনার কমেন্ট